প্রজন্ম নিউজ - অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে আসছে ‘ডিজিটাল রাইড’

এতদিন দেশে শুধু সুস্থ-সবল মানুষদের জন্য ছিলো রাইড শেয়ারিং সার্ভিস। এবার সাশ্রয়ী খরচে নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিতের পাশাপাশি  অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, আইসিইউ এবং মৃত মানুষের সেবায় মরদেহবাহী গাড়ি নিয়ে এসেছে নতুন রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল রাইড। করোনাকালে ডিজিটাল রাইড ড্রাইভারদের জন্য দিচ্ছে একহাজার টাকা বোনাস।

প্রাইভেট ব্যাংকে কর্মরত মামুন। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে ঢলে পড়লেন। বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি। সহকর্মীদের একজন তাকে সিপিআর করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললেন। কিন্তু বৃষ্টিতে কোন উপায়ন্তর না দেখে নানা স্থানে ফোন করছেন সহকর্মীরা। এমন সময়, রাসেল ডিজিটাল রাইডের অ্যাপে অ্যাম্বুলেন্স ডাকলেন। অল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে গেলেন। মামুন সাহেবকে নেওয়া হলো নিকটস্থ হাসপাতালে। চিকিৎসক জানালেন মামুন হৃদরোগে আক্রান্ত, ব্লক রয়েছে। সঠিক সময়ে তাকে হসপিটালে না আনা হলে ঝুকি তৈরি হতো। শুধু মামুন নয়, দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, গর্ভবতি অনেক মায়ের জীবন রক্ষা পেয়েছে ডিজিটাল রাইডের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে।

ডিজিটাল রাইডের সিইও ফখরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, করোনার এ সময়ে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সহায়তা ও ন্যায্য ভাড়া নিশ্চিতে  ডিজিটাল রাইড-এর অ্যাপস ব্যবহারে একহাজার টাকা বোনাস অফার দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক সাশ্রয়ী ভাড়ায় স্বাস্থসেবা ও আইসিইউ ফ্যাসিলিটি মানুষের দোরগোড়ায় পোঁছে যাবে। এরবাইরেও বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সে থাকবে ডাক্তার ও নার্সসহ সব জরুরি সরঞ্জাম। এটি ডিজিটাল রাইডের একটি ইউনিক সেবা। নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে ডিজিটাল রাইড প্রতি সপ্তাহে চালকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা দিবে। বীমা সুবিধাসহ চালকদের লাভবান করতেও নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।  একমাত্র ডিজিটাল রাইড এক্সক্লুসিভ  অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিয়ে আসছে। রাইড সার্ভিসে সাধারণ, আইসিইও, মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সেবা  অ্যাপসের মাধ্যমে পাওয়ায় খুশি ব্যবহারকারীরা।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী কয়েকজনের অভিয়োগ হাসপাতালের সামনে সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকে বহু অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু রোগী পেলেই ভাড়া হাঁকা হয় অনেক বেশি। এই করোনাকালেও হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স না নিয়ে অন্য কোথাও থেকে কম টাকায় ভাড়া করবেন, সে সুযোগও নেই। হাসপাতালকেন্দ্রিক ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট রোগীকে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে তুলতেই দেবে না। তাদের এক কথা, অন্য অ্যাম্বুলেন্স নিতে হলে তাদের টাকা দিতে হবে। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে অ্যাম্বুলেন্সের মতো একটি জরুরি পরিবহনসেবাকে ঘিরে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি চলছে বছরের পর বছর ধরে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয় হাসপাতালের কর্মচারী অথবা ওয়ার্ডবয়দের। এ কারণে খরচ পোষাতে মালিকেরা রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করেন। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের ঐক্য রয়েছে। তবে, অ্যাপে অ্যাম্বুলেন্স চালু হওয়ায় এ গুলো কমবে। এতে, অ্যাম্বুলেন্স সেবাদানকারী মালিক, চালক ও সেবা গ্রহণকারী সবার জন্য উপকার হবে দাবি ডিজিটাল রাইডের কর্মকর্তাদের।

জানা যায়, দেশে অ্যাম্বুলেন্সসেবা সহজ করতে সরকার কর ছাড় দিয়ে রেখেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) শুল্ক তালিকা অনুযায়ী, দেড় হাজার সিসি (ইঞ্জিন ক্ষমতা) পর্যন্ত একটি পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড অ্যাম্বুলেন্স আমদানিতে মোট কর ভার ৩১ শতাংশ। একই ক্ষমতার একটি মাইক্রোবাস আমদানিতে কর দিতে হয় ১২৮ শতাংশের মতো।

অ্যাম্বুলেন্স সেবা দানকারী সংশ্লিষ্টদের দাবি, অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়ার কোনো তালিকা নেই। নেই সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালাও। যে যেভাবে পারছে, রাস্তায় সমানে অ্যাম্বুলেন্স নামাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে হাসপাতালগুলোর কর্মচারীদের (ওয়ার্ডবয় ও আয়া) ওপর। এ জন্য তাদের ভাড়ার অন্তত ২০ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। এই কমিশন বাণিজ্য না থাকলে ভাড়া অনেকটাই কমে যেত। অ্যাপভিত্তিক রাইডশোয়ারে অ্যাম্বুলেন্স সেবা যুক্ত করায় স্বাগত জানিয়েছে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

এভাবেই হাজারো মানুষের জরুরী সেবাকে প্রাধান্য দিয়ে ২৪ ঘণ্টা জরুরী এ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে  আপনার পাশে আছে ডিজিটাল রাইড।

সরাসরি প্রজন্ম নিউজে পড়ুন - অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে আসছে ‘ডিজিটাল রাইড’